অনাদিবাবু রোজকার মতো আজও প্রাতঃভ্রমণের জন্য বের হলেন...
মাথায় টুপি, গায়ে একখানা শাল,,পায়ে মোজা,, হাতে একখানা ছড়ি,,-- যেটা গিন্নি উপহার দিয়ে বলেছিলো...
রেখে দাও,, যখন থাকবোনা , তখন এই ছড়ির মধ্যেই আমাকে খুঁজে পাবে
রাগ হয়েছিল গিন্নির কথা শুনে,, পরে অবশ্য গিন্নি হাসি মুখে যখন মাথায় বিলি কেটে দিয়েছিল,, আনদিবাবুর রাগ গলে জল হয়ে গিয়েছিল------
করোনায় গিন্নী মারা যাওয়ার পর থেকে অনাদিবাবু একাই থাকে-- -----
প্রতি রাতে গিন্নির ছবির সামনে দাঁড়িয়ে শুধুই বলে,, ভালো লাগেনা আর,, আরও কতদিন?,
তারপর ছড়িটা বিছানায় রেখে আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়ে,, ভোরের অপেক্ষায় ------
আজও উঠে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লো বটে,কিন্তু ঘন কুয়াশায় ভালো দেখাই যাচ্ছেনা পথঘাট,,তাই ছড়িটা শক্ত করে ধরে অনাদি বললো,, চলো গিন্নী আমরা পার্কে ঢুকে পড়ি -- এইবলে রাস্তা পার করার জন্য এগোতেই,, একখানা গাড়ি অনাদিবাবুকে ধাক্কা দিয়ে ছিটকে ফেলে, তীব্র গতিতে কুয়াশার অন্ধকারে মিলিয়ে গেল ------
আর ভোরের রাস্তায় পড়ে রইলো অনাদিবাবুর প্রাণহীন দেহটা,, নিথর দেহটাকে জড়িয়ে ধরে পড়ে থাকলো গিন্নির দেওয়া ছড়িখানাও ----------------
লেখক - প্রদীপ ঘোষ
(এই লেখা গল্পটি আমাদের নিজের লেখা এবং এটি কেউ কপি করে তার ওয়েবসাইট ওর সোশ্যাল মিডিয়া সাইট এ দিলে এটি দণ্ডনীয় অপরাধ)

No comments:
Post a Comment